1. barurarkotha@gmail.com : barurarkotha : baruarkotha
  2. reporter1@barurarkotha.com : বরুড়ার কথা প্রতিনিধি : বরুড়ার কথা প্রতিনিধি
  3. admin@barurarkotha.com : unikbd :
রবিবার, ১২ মে ২০২৪, ০৯:৪৮ পূর্বাহ্ন

রাজধানীর কোন পশুর হাটের ইজারা কত?

  • প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৪
  • ৩৪ বার পঠিত
দুই সিটিতে অস্থায়ী ২০ পশুর হাট

নিজস্ব প্রতিবেদক !! ঈদুল আজহায় কোরবানি পশুর হাটের সবচেয়ে আকর্ষণীয় গরুটির দাম কত তা জানার আগ্রহ সবার থাকে। বাজারে তোলার পর কিংবা বিক্রির পর সবাই দাম জানতে চায়। ক্রেতা বা বিক্রেতারা সেই দাম খুশি মনেই বলে মানুষজনকে। আর যে হাটে গরু-মহিষ তোলা হয় সেই হাটেরও একটা দাম বা ইজারামূল্য থাকে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ইজারার মাধ্যমে সেই দাম নির্ধারণ করে থাকে। এবার ডিএনসিসির উত্তরা দিয়াবাড়ী ১৬ ও ১৮ নম্বর সেক্টর বউ বাজার এলাকায় খালি জায়গার ইজারামূল্য সবচেয়ে বেশি ধরা হয়েছে এবং সবচেয়ে কম ধরা হয়েছে ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাঁচকুড়া বেপারীপাড়া রাহমান নগর আবাসিক প্রকল্পের জায়গার ইজারামূল্য।

এবার রাজধানীর ২০ স্থানে কোরবানির পশুর হাট বসবে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় বসবে ১১টি অস্থায়ী পশুর হাট, আর উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় বসতে যাচ্ছে ৯টি অস্থায়ী পশুর হাট। এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের গাবতলী ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সারুলিয়া এই ২টি স্থায়ী হাটেও কেনা-বেচা হবে কোরবানির পশু। সব মিলিয়ে কোরবানির ঈদের আগে রাজধানীতে পশুর হাটকেন্দ্রিক একটি উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গরু ও ছাগলসহ নানা পশু রাজধানীর হাটগুলোতে বিক্রির জন্য তোলা হয়। ক্রেতা-বিক্রেতাদের সরব উপস্থিতিতে সরগরম হয়ে ওঠে পশুর হাটগুলো। এমন সব আয়োজনে আরও মাত্রা যোগ করতে এবারের ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে রাজধানীতে বিভিন্ন স্থানে বসতে যাচ্ছে হাট।

দক্ষিণ সিটি এলাকায় যেসব হাট বসবে

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে ১১টি অস্থায়ী হাট বসাতে ইজারা বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। এছাড়া সারা বছর জুড়েই সারুলিয়ায় হাট বসে দক্ষিণ সিটি এলাকায়। এটি তাদের স্থায়ী হাট। এবারের ১১টি অস্থায়ী হাটের মধ্যে আছে- উত্তর শাহজানপুর খিলগাঁও রেলগেট বাজার মৈত্রী সংঘ ক্লাব সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, ইনস্টিটিউট অব লেদার টেকনোলজি কলেজ সংলগ্ন উন্মুক্ত এলাকা, পোস্তাগোলা শ্মশানঘাট সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, মেরাদিয়া বাজার সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, লিটল ফ্রেন্ডস ক্লাব সংলগ্ন খালি জায়গাসহ কমলাপুর স্টেডিয়াম সংলগ্ন বিশ্বরোডের আশপাশের খালি জায়গা, দনিয়া কলেজ সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, ধোলাইখাল ট্রাক টার্মিনাল সংলগ্ন উন্মুক্ত এলাকা, আফতাব নগর (ইস্টার্ন হাউজিং) ব্লক ই, এফ, জি, এইচ, সেকশন ১ ও ২ এর খালি জায়গা, আমুলিয়া মডেল টাউনের আশপাশের খালি জায়গা, রহমতগঞ্জ ক্লাব সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা এবং শ্যামপুর কদমতলী ট্রাক স্ট্যান্ড সংলগ্ন খালি জায়গা।

dhakapost

কোন হাটের কত দাম?

উত্তর শাহজানপুর খিলগাঁও রেলগেট বাজার মৈত্রী সংঘ ক্লাব সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গার হাটের মূল্য ধরা হয়েছে এক কোটি ৩০ লাখ ২৩ হাজার ৮৬৭ টাকা এবং সিডিউল মূল্য ধরা হয়েছে ২৬ হাজার ৮০০ টাকা। পাশাপাশি হাটের পরিচ্ছন্নতা ফি ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৫১ হাজার ১৯৪ টাকা।

ইনস্টিটিউট অব লেদার টেকনোলজি কলেজ সংলগ্ন উন্মুক্ত এলাকার হাটের মূল্য ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৩৩ লাখ ১১ হাজার ৬১১ টাকা। হাটটির সিডিউল মূল্য ৬৭ হাজার এবং পরিচ্ছন্নতা ফি ১৬ লাখ ৫৫ হাজার ৫৮১ টাকা।

পোস্তাগোলা শ্মশানঘাট সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গায় হাটের সরকারি মূল্য ধরা হয়েছে ২ কোটি ২৩ লাখ ৩১ হাজার ২৫৬ টাকা, হাটের সিডিউল মূল্য ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৪০০ টাকা এবং পরিচ্ছন্নতা ফি ১১ লাখ ১৬ হাজার ৫৬৩ টাকা।

মেরাদিয়া বাজার সংলগ্ন আশ পাশের খালি জায়গায় হাটের মূল্য ধরা হয়েছে ২ কোটি ৩৬ লাখ ৪ হাজার ৪৩৪ টাকা এবং সিডিউল মূল্য ৪৮ হাজার টাকা এবং পরিচ্ছন্নতা ফি ১১ লাখ ৮০ হাজার ২২২ টাকা।

লিটল ফ্রেন্ডস ক্লাব সংলগ্ন খালি জায়গাসহ কমলাপুর স্টেডিয়াম সংলগ্ন বিশ্বরোডের আশপাশের খালি জায়গায় হাটের মূল্য ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৬৭ লাখ ২৯ হাজার টাকা, সিডিউল মূল্য ৭৪ হাজার ২০০ টাকা এবং পরিচ্ছন্নতা ফি ১৮ লাখ ৩৬ হাজার ৪৫০ টাকা।

দনিয়া কলেজ সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গায় হাটের দাম ৪ কোটি ১৭ লাখ ৬৪ হাজার ৫৫৬ টাকা, সিডিউল মূল্য ৮৪ হাজার ২০০ টাকা এবং পরিচ্ছন্নতা ফি ২০ লাখ ৮৮ হাজার ২২৮ টাকা।

dhakapost

ধোলাইখাল ট্রাক টার্মিনাল সংলগ্ন উন্মুক্ত এলাকার হাটের সরকারি দাম ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৯১ লাখ ৭২ হাজার ৩০০ টাকা, সিডিউল মূল্য ৭৯ হাজার টাকা এবং পরিচ্ছন্নতা ফি ১৯ লাখ ৫৮ হাজার ৬১৫ টাকা।

আফতাব নগর (ইস্টার্ন হাউজিং) ব্লক ই, এফ, জি, এইচ, সেকশন ১ ও ২ এর খালি জায়গায় হাটের মূল্য ২ কোটি ৫৫ লাখ ৯৯ হাজার টাকা, সিডিউল মূল্য ৫১ হাজার ৮০০ টাকা এবং পরিচ্ছন্নতা ফি ১২ লাখ ৭৯ হাজার ৯৫০ টাকা।

আমুলিয়া মডেল টাউনের আশপাশের খালি জায়গায় হাটের দাম ৪৫ লাখ ৫০ হাজার, সিডিউল মূল্য ৯ হাজার ৬০০ টাকা এবং পরিচ্ছন্নতা ফি ২ লাখ ২৫ হাজার ৪৮৫ টাকা।

রহমতগঞ্জ ক্লাব সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গায় হাটের দাম ৫০ লাখ ২৯ হাজার ৭০০ টাকা, সিডিউল মূল্য ১০ হাজার ৮০০ টাকা এবং পরিচ্ছন্নতা ফি ২ লাখ ৫১ হাজার ৪৮৫ টাকা।

শ্যামপুর কদমতলী ট্রাক স্ট্যান্ড সংলগ্ন খালি জায়গায় হাটের দাম ৬৭ লাখ ৩১ হাজার টাকা, সিডিউল মূল্য ১৩ হাজার ৮০০ টাকা এবং পরিচ্ছন্নতা ফি ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৫৫০ টাকা।

হাটগুলো বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের এক সম্পত্তি কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রাথমিকভাবে আমারা এই ১১টি হাটের জন্য ইজারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে হাটের সরকারি মূল্য নির্ধারণ করেছি। তবে কর্তৃপক্ষ তালিকা থেকে যে কোনো হাট বাতিল বা নতুন করে হাট সংযোজন করতে পারে।

উত্তর সিটিতে হাট বসবে ৯টি

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন গাবতলী স্থায়ী হাট ছাড়াও এবার আরও ৯টি অস্থায়ী হাট বসাবে সংস্থাটি। সে লক্ষ্যে তারা হাটগুলোর ইজারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।

এবারের অস্থায়ী হাটগুলো মধ্যে রয়েছে- ভাটারা সুতিভোলা খাল সংলগ্ন খালি জায়গা (ভাটারা সুতিভোলা), কাওলা শিয়ালডাঙ্গা সংলগ্ন খালি জায়গা, উত্তরা দিয়াবাড়ী ১৬ ও ১৮ নম্বর সেক্টর বউ বাজার এলাকার খালি জায়গা, বাড্ডা ইস্টার্ন হাউজিং আফতাবনগর ব্লক ই, এফ, জি, এইচ, এল, এম, এন এবং আশপাশের জায়গা, মিরপুর সেকশন ৬ ওয়ার্ড নম্বর ৬ (ইস্টার্ন হাউজিং) এর খালি জায়গা, মোহাম্মাদপুর বছিলার ৪০ ফুট রাস্তা সংলগ্ন খালি জায়গা, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউউট সংলগ্ন খালি জায়গা, ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাঁচকুড়া বেপারীপাড়া রাহমান নগর আবাসিক প্রকল্পের জায়গা এবং খিলক্ষেত থানার ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের মস্তুল চেকপোস্ট সংলগ্ন পাড়ার খালি জায়গা।

উত্তর সিটির কোন হাটের মূল্য কত?

উত্তর সিটির আওতাধীন এলাকায় অস্থায়ী প্রতিটি হাটের সরকারি মূল্যের বা ইজারা মূল্যের ১০ শতাংশ টাকা পরিচ্ছন্নতা ফি বাবদ পরিশোধ করতে হবে। ভাটারা সুতিভোলা খাল সংলগ্ন খালি জায়গার (ভাটারা সুতিভোলা) হাটের সরকারি মূল্য ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৭০ লাখ পাশাপাশি অফেরতযোগ্য সিডিউল মূল্য ধরা হয়েছে ৭৪ হাজার ৬০০ টাকা।

কাওলা শিয়ালডাঙ্গা সংলগ্ন খালি জায়গার হাটের মূল্য ধরা হয়েছে ১ কোটি ৩৭ লাখ ৫০০ টাকা আর সিডিউল মূল্য ২৮ হাজার ১০০ টাকা।

উত্তরা দিয়াবাড়ী ১৬ ও ১৮ নম্বর সেক্টর বউ বাজার এলাকার খালি জায়গার হাটের মূল্য ধরা হয়েছে ৬ কোটি টাকা এবং সিডিউল মূল্য ১ লাখ ২০ হাজার ৬০০ টাকা।

বাড্ডা ইস্টার্ন হাউজিং আফতাবনগর ব্লক ই, এফ, জি, এইচ, এল, এম, এন এবং আশেপাশের জায়গার হাটের দাম ধরা হয়েছে ১ কোটি ৭৪ লাখ ২ হাজার ৭২৭ টাকা আর সিডিউল মূল্য ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা।

মিরপুর সেকশন ৬ ওয়ার্ড নম্বর ৬ (ইস্টার্ন হাউজিং) এর খালি জায়গার হাটের দাম এক কোটি ৩৭ লাখ ৬২ হাজার ৪৬০ টাকা এবং সিডিউল মূল্য ২৮ হাজার ২০০ টাকা।

মোহাম্মাদপুর বছিলার ৪০ ফুট রাস্তা সংলগ্ন খালি জায়গার হাটের সরকারি মূল্য ২ কোটি ২০ লাখ টাকা এবং সিডিউল মূল্য ৪৪ হাজার ৬০০ টাকা।

ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউউট সংলগ্ন খালি জায়গার হাটের দাম ৬০ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং সিডিউল মূল্য ১২ হাজার ৮০০ টাকা।

৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাঁচকুড়া বেপারীপাড়া রাহমান নগর আবাসিক প্রকল্পের জায়গার হাটের দাম ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং সিডিউল মূল্য ৩ হাজার ৯০০ টাকা।

খিলক্ষেত থানার ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের মস্তুল চেকপোস্ট সংলগ্ন পাড়ার খালি জায়গার হাটের দাম ৩০ লাখ ২১ হাজার টাকা এবং সিডিউল মূল্য ৬ হাজার ৭০০ টাকা।

হাট বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ মাহে আলম বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা এই ৯টি হাট বসানোর জন্য ইজারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছি। তবে কর্তৃপক্ষ যে কোনো হাট বাতিল বা সংযোজন করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, পশুর হাটে ক্রেতা ও বিক্রেতার অনলাইনে পশু কেনা বেচার জন্য উৎসাহিত করতেও আমরা কাজ করে যাচ্ছি। বিক্রেতার অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং এটিএম বুথ ব্যবহার করে অর্থ উত্তোলন, প্রেরণ, স্থানান্তরের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

dhakapost

আফতাবনগর নিয়ে দুই সিটির টানাটানি, হাট বন্ধ করতে সোসাইটির চিঠি

সীমানা কেন্দ্রিক সমস্যায় আফতাবনগর হাট নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন পৃথকভাবে ইজারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। বাড্ডা ইস্টার্ন হাউজিং অর্থাৎ আফতাব নগরের কয়েকটি ব্লকে কোরবানির পশুর হাট বসানোর জন্য দুটি সংস্থায়ই টেন্ডার দিয়েছে। ফলে আফতাব নগর এক হাট নিয়ে দুই সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে টানাটানি শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে কোরবানির সময় পশুর হাট বসালে এলাকায় নানা রকমের নাগরিক সমস্যার সৃষ্টি হয়—এমন কারণ উল্লেখ করে আফতাব নগরে হাট না বসাতে বা হাটের অনুমতি না দিতে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের কাছেই চিঠি দিয়ে আবেদন জানিয়েছে জহুরুল ইসলাম সিটি সোসাইটি (আফতাবনগর সোসাইটি)। জহুরুল ইসলাম সিটি সোসাইটির সভাপতি মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন ঢালী এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম কামাল স্বাক্ষর করা পৃথক দুটি চিঠি ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের কাছে পাঠানো হয়েছে।

শেয়ারঃ

এই জাতীয় অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৩
Theme Customized By BreakingNews